তানভির হায়দাররাও দেশের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখেন: আমরাই বাধা হয়ে দাঁড়াই

প্রকাশিত: ৯:১৭ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৬, ২০২০

তানভির হায়দাররাও দেশের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখেন: আমরাই বাধা হয়ে দাঁড়াই

জুবায়ের আহমেদ, ক্রীড়া লেখকঃ-
সহজ একটা হিসাব, আমাদের বয়স যখন ৮/১০ বছর হয়, তখনই মাঠের ক্রিকেটে নেমে পড়ি আমরা। এর মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন একাডেমীতে ভর্তি হন, ক্রিকেটার হবার স্বপ্নে বিভোর হয়ে। ক্রিকেটার মানেই জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার ও খেলার স্বপ্ন। আমি, আপনি সে স্বপ্নটা দেখতে পারিনি, পারিবারিক, আর্থিক কিংবা বিভিন্ন কারনে, তাই আমরা টেনিস বলে ক্রিকেট খেলেই ক্রিকেট খেলার শখ পূরণ করি। আর আমাদের মধ্যে যারা পরিবার থেকে পূর্ণ সমর্থন কিংবা কাছের কোন প্রিয় মানুষের একক সমর্থনের মাধ্যমে ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন পূরণের উদ্দেশ্যে একাডেমীতে ভর্তি হন কিংবা কোন একজনের অধীনে প্র্যাক্টিস করে নিজেকে প্রস্তুত করেন এবং যারা ভালো খেলে তারা বয়সভিত্তিক ক্রিকেট খেলার সুযোগ পান।

এক সময় এই সব তরুন ক্রিকেটাররা বিসিবির অধীনে সর্বোপরি প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে খেলার সুযোগ পান। তখন থেকেই শুরু হয় জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার জন্য পরিশ্রমের চূড়ান্ত পালা। আর এখানে যারা সফল, তাই জাতীয় দলে সুযোগ পান, ব্যর্থ হলে কিংবা মুটামুটি খেললে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটেই ক্যারিয়ার শেষ হয় তাদের। তবে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে এসে জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখেন না, এমন কোন ক্রিকেটার নেই কোন দেশে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।

চারদিনের প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট ও লিষ্ট এ ম্যাচে যেসকল ক্রিকেটার খেলার সুযোগ পায়, মূলত তখন থেকেই ক্রিকেট সমর্থকরা তাদের উপর নজর দেন এবং বিসিবিও তাদের খেয়ালে রাখেন। কেননা প্রথম শ্রেণী ও লিষ্ট এ ম্যাচের পারফরম্যান্স দেখেই জাতীয় দলে ক্রিকেটারদের অন্তর্ভূক্ত করা হয়।

বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েই কয়েক ম্যাচের মধ্যে জ্বলে উঠেছেন, এমন ক্রিকেটারের সংখ্যাই বেশি। লাগাতর ব্যর্থ হয়েছেন এমন ক্রিকেটারের সংখ্যা খুবই কম। কিন্তু ব্যর্থ হওয়া কিংবা সাফল্য পাওয়া, এই দুই ধরণের ক্রিকেটারদের স্বপ্ন একটাই, একই স্বপ্ন নিয়ে তাদের পথচলা শুরু। কেউ ব্যর্থ হয়, আর কেউ সফল হয়। এর বড় উদাহরণ হচ্ছে, ফরহাদ রেজা ও সাকিব আল হাসান। দুজনেই অভিষেকে আলো ছড়িয়েছেন, রেজা দেশের হয়ে ওয়ানডেতে অভিষেকই ৫০ রান করার গৌরব অর্জন করেছেন, তাকেই ভবিষ্যত কান্ডারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের স্রোতে রেজা ব্যর্থ হয়ে দীর্ঘদিন ধরে দলের বাহিরে, আর সাকিব বিশ্বসেরা। অথচ দুজন একই জায়গা থেকে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। বন্ধুও ছিলেন দুজন। বর্তমান অবস্থা সবার জানা।

সফল হওয়া ক্রিকেটারদের নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীরা মেতে থাকেন সব সময়, আর ব্যর্থদের নিয়ে ব্যঙ্গ, কৌতুক সহ নানা প্রকার বিদ্রুপ করেন, সে যে বাংলাদেশের একজন নাগরিক, এটাও ভুলে যান ক্রিকেটপ্রেমীরা। বিভিন্ন ভাবে অপমান ও মানসিক চাপ তৈরী করা হয় ব্যর্থ হওয়া ক্রিকেটারদের উপর, যা অমানবিক, যা কখনোই কাম্য নয়।
শুভাগত হোম, রেজা, জিয়া, তানভির হায়দার, শুভাশিষ, সহ ব্যর্থ ক্রিকেটারদের ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্স সেরা ক্রিকেটারদের মতোই। কিন্তু জাতীয় দলে এসে থিতু হতে না পারায় তাদের নিয়ে আমরা ব্যঙ্গ করি। বিভিন্ন ব্যঙ্গাত্মক উপাধিতে ভূষিত করি।

ছোট্ট বেলা থেকে জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখা শুরু করে এক সময় জাতীয় দলে এসে ব্যর্থ হওয়ার কষ্ট কতটা তা ব্যর্থরাই বুঝেন, আর আমরা তাদের পাশে না দাঁড়িয়ে মুখ ফিরিয়ে নেই, যা কখনোই কাম্য নয়।

যে বিষয়ে আলোকপাত করে আমি লিখছি, এটা সবাই জানেন, কারোরই অজানা নয়। তাই আসুন, বাংলাদেশ ক্রিকেটকে যেমন আমরা সবাই ভালোবাসি, ঠিক তেমনি করে জাতীয় দলে আসা প্রতিটি ক্রিকেটারকেও একই ভাবে ভালোবাসি, সমর্থন দেই, পাশে থাকি সব সময়।

একটা বিষয় সবাই ভাববেন-আপনার বন্ধুটি, যার সাথে কাঁধে কাঁধ রেখে একসাথে চলাফেরা করেন সব সময়, এক সময় যদি ব্যর্থ হয়ে পেছনে পড়ে যায়, তাহলে তাকে কি ভুলে যাবেন, তাচ্ছিল্য করবেন, কখনোই না। যে কাজটিতে আপনি নিজে ব্যর্থ হয়েছেন, তারপর আপনি কি কারো তাচ্ছিল্য, ব্যঙ্গ সহ্য করবেন? বিষয়টি এভাবেই ভাবুন।

জয় হউক বাংলাদেশ ক্রিকেটের, জয় হউক ক্রিকেটারদের।

Sharing is caring!