ভালোবেসে মাশরাফি যে নামে ডাকেন সতীর্থ ক্রিকেটারদের, জানলে অবাক হবেন

প্রকাশিত: ৩:১২ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২০

ভালোবেসে মাশরাফি যে নামে ডাকেন সতীর্থ ক্রিকেটারদের, জানলে অবাক হবেন

ডেস্ক নিউজ, খেলাযোগ বিডিঃ-খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, এইতো টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর ক্রিকেটের বড় বড় ওয়েবেসাইট তাদের প্রথা মেনেই ক্রিকেটারদের ভাল নাম লিখতে শুরু করলো। তার আগে সেই স্বাধীনতার পর থেকে ৭০, ৮০ ও ৯০-এর দশকের প্রায় পুরো সময় ফুটবল, হকি, টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার, শুটিং ও অন্যসব জনপ্রিয় খেলাগুলোর ক্রীড়াবিদদের মত ক্রিকেটারদেরও ডাক নামেই ডাকা হতো।

৭০ দশকের ফুটবলে সান্টু, মঞ্জু, নান্নু, পিন্টু, টুটুল, সালাউদ্দীন, এনায়েত, ৮০’র দশকে মোহসিন, ইউসুফ, চুন্নু, ওয়াসিম, মহসিন, বাদল, সালাম ও আসলামকে সবাই এক নামে চিনতো।

একই ভাবে ক্রিকেটে রকিবুল, ইউসুফ বাবু, ওমর খালেদ রুমি, আশরাফুল, বাদশাহ, দৌলত, সেলিম, মাইনু আর মন্টুরা ছিলেন ৭০ দশকের ক্রিকেট তারকা। ৮০’র দশকে লিপু, নান্নু, ফারুক, আতহার, নোবেল, মাসুম, শান্টু, প্রিন্স মনি, আকরাম, বুলবুল, ৯০ দশকে অপি, বিদ্যুৎ, সুজন, সুমন, পাইলট, জাহাঙ্গীর, রফিক, শান্ত-মঞ্জু নামেই সবাইকে ডাকতেন।

এমনকি এখন যিনি দেশের এক নম্বর তারক সেই মাশরাফি বিন মর্তুজাও শুরুতে পরিচিতি পেয়েছিলেন ‘কৌশিক’ ডাক নামে। এরপর দ্বিতীয় বছরে গিয়ে ভাল বা আসল নামে পরিচিত হন পরবর্তীতে দেশের এক নম্বর তারকা বনে যাওয়া মাশরাফি।

এখন আর ক্রিকেটারদের ডাক নামে ডাকার সেই পুরোন রীতি প্রায় নেই বললেই চলে। জাতীয় দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটার পরিচিত হন আসল নামেই।

তারপরও ড্রেসিং রুমে এবং নিজেদের মধ্যে ক্রিকেটাররা একজন আরেকজনকে কখনো ডাক নামে ডাকেন। আবার নিজেরা কিছু নাম দিয়ে এবং বিভিন্ন সময় কোচিং করাতে আসা ভিনদেশি কোচিং স্টাফরাও ক্রিকেটারদের বড় নামকে ছোট রাখতে গিয়ে কিছু ভিন্ন নামকরণ করে ফেলেন। সেগুলোও ক্রিকেটারদের মাঝে বেশ জনপ্রিয়।

সবার জানা দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সফলতম অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাকে বিদেশি কোচরা প্রায় সবাই সংক্ষেপে ‘ম্যাশ’ বলে ডাকেন। এখন বিষয়টা এমন হয়েছে যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও মাশরাফির ম্যাশ নাম ছড়িয়ে পড়েছে এবং কারো কারো ধারণা যে, এটাও বুঝি মাশরাফির ডাক বা পারিবারিক নাম।

কিন্তু এটা যে মাশরাফির ডাাক নাম নয়, ভিনদেশি কোচরা ‘মাশরাফি’ শব্দটা উচ্চারণ করতে গিয়ে বিপাকে পড়তেন, তাই ছোট্ট করে ম্যাশ ডাকেন- তা এখনো অনেকেরই অজানা।

এদিকে বাংলাদেশের আগের প্রজন্মের ক্রিকেটারদেরও কিন্তু কিছু ছোট নাম ছিল এবং বলার অপেক্ষা রাখে না, সেগুলো সব ভিনদেশি কোচদের দেয়া। দেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয়কে ‘ডিজে’, হাবিবুল বাশার সুমনকে ‘ব্যাশ’ আর মোহাম্মদ আশরাফুলকে ‘অ্যাশ’ নামে ডাকা হতো।

তবে আজকাল বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা ড্রেসিং রুমে ও নিজেদের মধ্যে কারো কারো নতুন নামকরণ করেছেন। তাদের ভালবেসে সে সব নামে ডাকা হয়। বলার অপেক্ষা রাখে না এর বেশির ভাগ নামই মাশরাফির দেয়া। অনুজপ্রতিম ছোট ভাই ক্রিকেটারদের ভালবেসে একেকজনকে একেক নাম দিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক।

সেটা অনেকের মুখে মুখেই শোনা যায়। তবে ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান মোহাম্মদের উইটিউব লাইভে মাশরাফি নিজ মুখে জানিয়েছেন তিনি ভালবেসে, স্নেহের পরশ বুলিয়ে ছোট ভাই ক্রিকেটারদের অনেককেই নাম দিয়েছেন। তাদের ড্রেসিং রুমে সেই নামেই ডাকেন।

মাশরাফি বলেন, ‘আমি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে খুনসুটি করে ডাকি ‘মুমু দুলু’ নামে। মুমিনুল হকের নাম রাখা হয়েছে ডন। এছাড়া সাকিবকে স্যাক, তামিমকে কখনো খান সাহেব, কখনো ইকবাল আবার কোন সময় খান বলে সম্বোধন করি।’

তবে মজার বিষয় হলো, তাসকিনকে মাশরাফি ডাকেন ‘ভাইয়া’ বলে। আবার ভাববেন না তাসকিনকে ভাইয়ের মত দেখেন বলে ভাইয়া বলে ডাকেন হয়তো। মাশরাফি তার সহযোগি ক্রিকেটারদের সবাইকেই ভাইয়ের মত দেখেন। তার ডাক, সম্বোধন ও স্নেহ-ভালবাসা সবার জন্যই সমান।

মাশরাফির ব্যাখ্যা হলো, ‘তাসকিন নিজেই বড়দের সাথে কথা বলতে গিয়ে ভ্য়া, ভায়া করে। তাই তাকে আমিও ভায়া বলে ডাকি।’

তামিম ইকবাল জানান, ‘কোচ হাথুরুসিংহে পেসার রুবেল হোসেনকে ‘মালি’ বলে ডাকতেন। কারন তার বোলিং অ্যাকশনের সাথে লঙ্কান ফাস্ট বোলার লাসিথ মালিঙ্গার বোলিং অ্যাকশনের প্রচুর মিল। তাই তাকে ডাকা হতো মালি বলে।’

আর মাশরাফি মুশফিকুর রহিমের নাম দিয়েছেন ‘বাট্রু দা।’ সেটা কি মুশফিক উচ্চতায় খাট বলে? মাশরাফির ব্যাখ্যা, ‘না না। আমি মুশফিককে বাট্রু দা বলি, কারণ হলো, ঘরের সুবোধ বালক শিষ্ট ছেলেকে আদর করে অনেকে ডাকে না বাট্রু দা। তাই আমিও মুশফিককে ওই নামে ডাকি।’

তবে নোমান মোহাম্মদের ইউটিউব লাইভে তামিম ইকবাল জানান, শুধু মাশরাফি ভাই’ই ওই নামে ডাকেন। অন্য কেউ নন। আবার উল্টোটাও আছে। সিনিয়র ক্রিকেটাররা মেহেদি হাসান মিরাজকে ডাকেন ‘পাকনা’ বলে। কিন্তু মাশরাফি তাকে শুধু মিরাজ বলেই ডাকেন। মিরাজের নিজের ব্যাখ্যা, আসলে বড় ভাইরা আমাকে ভালবেসেই ‘পাকনা’ বলে ডাকেন।

তামিম একই অনুষ্ঠানে কথা বলতে এসে জানিয়েছেন, আসলে মাশরাফি ভাই আজব-আজব নামকরণ করেন। যেটা তার পক্ষেই সম্ভব। এছাড়া আরও কজন ক্রিকেটারের কিছু সাঙ্কেতিক নামও আছে। মাশরাফির ভাষায়, সেগুলো বেশ ট্রিকি। নাইবা বললাম। যেমন, সৌম্যকে আমি যে নামে ডাকি সেটা আমার আর সৌম্যর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। মিরাজকে নরমালি সবাই পাকনা বলে। পাকনা মানে খারাপ অর্থে না। আমি মিরাজ বলেই ডাকি। আর ন্যাশনাল টিমের মোস্তাফিজকে সবাই ‘ফিজ’ বলে ডাকে। আমি বলি মুস্তা। শফিউলকে বলি শ্যাফ।

জাতীয় দলের সাবেক কোচ ডেভ হোয়াটমোর মাশরাফিকে ডাকতেন ‘পাগলা’ বলে এবং ডেভ হোয়াটমোরের পাশাপাশি অনেকেই মাশরাফিকে ওই নামেই ডাকতেন। কেউ কেউ এখনো ডাকেন। তারা কারা? মাশরাফি কি সেই ‘পাগলা’ নাম মিস করেন?

এমন প্রশ্নের জবাবে মাশরাফির ব্যাখ্যা, ‘পাগলা ডাকটা মিস করি। করি না যে ঠিক তা না। আসলে টাইম টু টাইম সব অ্যাডজাস্ট হয়ে যায়। আমার ক্যারিয়ারের প্রথম দিককার সিনিয়র ক্রিকেটার বা বড় ভাই তুল্য যারা সেই আকরাম ভাই, সুজন ভাই, পাইলট ভাই আর সুমন ভাইরা পাগলা বলে ডাকতেন। ওই বহরে সুজন ভাই এখনো পাগলা বলেই ডাকেন। আর এখন যারা জাতীয় দলে আছে তারা ম্যাশ বলে ডাকে। আমাদের রিলেশন টা কিন্তু খুব সহজ।’

তথ্য ও সূত্রঃ- জাগো নিউজ।

Sharing is caring!